ঘরের বাইরের সাজগোজ টা একটা ঘরের ফার্স্ট ইম্প্রেশন এর মতই। আসুন দেখে নেই কিভাবে আমরা সহজেই ঘরের বাইরের সাজানো করে ফেলতে পারি সুন্দর ও শোভনীয়।
বিউটিফিকেশন এর জন্য যা যা করতে পারি:
- 1
ডিফাইন দ্য স্পেস
ঘরের বাইরের অংশ, প্রবেশদ্বার, ভেতরের জিনিসগুলোর স্পষ্ট একটি সংযোগ বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এজন্য ভিন্ন ভিন্ন রঙ, আসবাব বা আলোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে প্রত্যেকটি জিনিসের আলাদা পরিচয় তৈরি হয়ে সুন্দর একটি কম্পোজিশন তৈরি হবে।
- 2
ঘরের বাইরের ওয়ালে ভিন্নতা
ঘরের বাইরের দিকটায় ভিন্ন আমেজ আনতে ভেতরের চেয়ে অন্য কোন রঙ ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া ওয়াল পেপার, টাইলস, মাটির ফলক দিয়েও জায়গাটা অন্যরকম করে নেওয়া যেতে পারে।
- 3
দরজার সামনের আসবাব, সাথে আলোর খেলা
ঘরের ধরন, দেওয়ালের রং, নিজের সামর্থ্য ও রুচি অনুযায়ী দরজার পাশে হালকা কোনো আসবাব রাখা যেতে পারে। এছাড়াও দরজার সামনের লাইটটা হতে পারে একটু ভিন্ন ডিজাইনের অথবা ভিন্ন কোন আরামদায়ক রঙের।
- 4
কাঠ, ফুল, মোমবাতির বাহার
ঘরের বাইরের দিকটায়, বিশেষ করে ঘরে ঢোকার পথে একটা ছোটো টুলের উপর ফুলদানিতে কিছু তাজা ফুল কিংবা সুন্দর নকশার মোমবাতি রেখে দিলে যে কারোরই ভালো লাগবে। এছাড়াও কাঠের তৈরি কোনো শো-পিসও রাখা যায়।
- 5
টেক্সচার এবং গাছপালার ভিন্নতা
ঘরের বাইরের দিকটায় মাটি, সিরামিক অথবা কাঠের বিভিন্ন পাত্রে কিছু গাছ, ক্যাকটাস, অর্কিড ইত্যাদি রেখে দেওয়া যেতে পারে। যাদের বাড়ির বাইরে বাড়তি জায়গা রয়েছে তারা চাইলেই ঘরে ঢোকার পথের দুই পাশে সুন্দর করে দুই লাইনে ফুল গাছের সারি করে দিতে পারেন। আজকাল অনেকেই ঘরের বাইরে কর্নার রেখে তাতে ছোটো ছোটো গাছ রাখেন যা সত্যিই খুব সুন্দর লাগে দেখতে।
- 6
দরজার রঙ, ডিজাইনের ছন্দ
সামর্থ্য থাকলে ক’বছর পর পর ঘরের দরজার প্যাটার্ন বদলে নেওয়া যেতে পারে। এছাড়া দরজার রঙ বদলে দিলেও হয় কিংবা ছোটোখাটো জিনিস দিয়ে দরজার চেহারা বদলে নেওয়া যেতে পারে।
- 7
ড্রামাটিক স্টাইলিশ মেঝে
ঘরের বাইরের দিকের মেঝেতে আর্টিফিশিয়াল ঘাসের কার্পেট দিয়ে মেঝের লুক ও ফিলে পরিবর্তন আনা যায়। এছাড়া মার্বেল পাথর, কাঠ এসব দিয়ে ফ্লোর তৈরি করিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
- 8
আগত অতিথিদের কর্নার
ঘরের বাইরে বা বাড়িতে ঢোকার পথে আগত অতিথিদের জিনিসপত্র রাখার জন্য একটা ছোটো আলমারি বা এ জাতীয় কোনো আসবাব রাখা যেতে পারে। এতে করে অতিথিরা নিজের জিনিস কোথায় রাখবেন এই দ্বিধা আর থাকে না। আর সুন্দর ছিমছাম ডিজাইনের একটি আসবাব জায়গাটির সৌন্দর্য বাড়াবে।
- 9
প্রবেশদ্বারে সাজসজ্জার পালা বদলানো
একটানা একই রকম সাজসজ্জায় দেখলে নিজের ঘরের বাইরের দিকটা নিজের কাছেই একসময় একঘেয়ে হয়ে ওঠে। এজন্য মাঝে-মাঝে ঘরের বাইরের ডেকোরেশন এদিক-ওদিক বদলে বা কিছু জিনিস পরিবর্তন করে দেওয়া যেতে পারে। এতে একটা নতুনত্ব এসে একঘেয়েমি ব্যাপারটা দূর হয়।
- 10
সাজানোর সুন্দর সামঞ্জস্য
ঘরদোর যা দিয়েই সাজানো হোক বাইরের জিনিসের সাথে ভিতরের জিনিসের একটি সামঞ্জস্য থাকা চাই। শুধু নিজের ভালো লাগছে বলে আবোল-তাবোল জিনিস দিয়ে হযবরল করে রাখলে সুন্দর হবার বদলে একটা বিশৃঙ্খলাই তৈরি হবে।
কেউ বাড়িতে ঢোকার আগেই যদি ইমপ্রেস হয়ে যান, তবে কার না ভালো লাগবে? আর পথ জানা থাকলে খুব সহজেই মন ভরে সুন্দর আর দারুণ করে সাজিয়ে ফেলা যায় ঘরের বাইরের জায়গাটা।