Unilever logo

ওয়াটার পিউরিফায়ার যদি না করে কাজ! বিশুদ্ধ পানি আমি কীভাবে পাবো আজ?

কিছুদিন আগেও খাবার পানি বিশুদ্ধ করার জন্য পানি ফুটিয়ে নেওয়াটাই ছিল বহু প্রচলিত পদ্ধতি। ওয়াটার পিউরিফায়ারের সাথে পরিচয় ছিলো খুব কম লোকেরই। আর এখন পানিবাহী রোগজীবাণু থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই আছে ওয়াটার পিউরিফায়ার। কম সময়ে, কম খরচে, নিরাপদ বিশুদ্ধ পানির জন্য নির্ভরযোগ্য মাধ্যম ‘ওয়াটার পিউরিফায়ার’।

আপডেট করা হয়েছে

নানা কারণে যেকোনো সময় অকেজো হয়ে যেতে পারে এই ওয়াটার পিউরিফায়ার। কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য করলেই বোঝা যাবে পিউরিফায়ারটি ঠিকমতো কাজ করছে না। যেমন-

  • পিউরিফায়ার-এর নলে/কলে শব্দ হলে।

  • পিউরিফায়ার থেকে পানি লিক করলে।

  • পানির বাজে স্বাদ পাওয়া গেলে।

  • পানিতে দুর্গন্ধ পাওয়া গেলে।

  • ফিল্টার অংশ দিয়ে পানি ভালোভাবে চলাচল না করলে।

  • পিউরিফায়ার-এর কল থেকে ধীরে পানি পড়লে।

তবে পিউরিফায়ার-এর ধরন অনুযায়ী এই বিষয়গুলো কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

এরপর জানতে হবে কী কারণে ওয়াটার পিউরিফায়ার অকেজো হয়েছে বা ঠিকমতো কাজ করছেনা! যেমন-

  • পিউরিফায়ারে নির্দেশিত পরিমাণ পানি না দিলে সমস্যা হয়।

  • বিদ্যুৎ চালিত পিউরিফায়ার-এর ক্ষেত্রে ইলেক্ট্রিক কানেকশনের কারণে ঝামেলা হতে পারে।

  • পিউরিফায়ার গুলো সাধারণত ‘রিভার্স অসমোসিস (RO)’ প্রক্রিয়ায় কাজ করে। এতে ভেতরে থাকা পাম্পের উপর চাপ পড়ে এবং যন্ত্রটি যেকোনো সময় অকেজো হয়ে যেতে পারে।

  • ফিল্টারে অতিরিক্ত পানি দিলেও পিউরিফায়ার অকেজো হয়ে যায়।

  • ফিল্টার চেম্বারের অতিরিক্ত বাতাস আটকে গেলেও পিউরিফায়ার নষ্ট হয়ে যায়। ইত্যাদি।

তো ত্রুটিযুক্ত বা অকেজো ওয়াটার পিউরিফায়ার নিয়ে দিন যাপনের কথা ভাবাই যায়না। মজার বিষয় হচ্ছে, বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত পিউরিফায়ারগুলো আকারে ছোট বা মাঝারি এবং সিম্পল কয়েকটা অংশে বিভক্ত থাকে। তাই ছোটো কয়েকটা পার্টস খুলে ধুয়ে মুছে নিলেই দেখা যায় যে এটি আবার আগের মতোই কাজ করছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে পার্টস বদলে নেওয়ার ব্যাপারও থাকে।

যে যে পার্টস এর দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন:

  1. মাইক্রো-ফাইবার ফিল্টার:

    মাইক্রো-ফাইবার ফিল্টারটি ওয়াটার পিউরিফায়ার এর অন্যতম একটি অংশ। অনেক সময় এই অংশটিতে পানিতে থাকা অদৃশ্য ময়লাগুলো আটকে যায়। তাই এটি কাজ না করলে পিউরিফায়ারে পানির স্বাভাবিক ফ্লো কমে যেতে পারে। এজন্য পিউরিফায়ারের ম্যানুয়াল দেখে এই মাইক্রো-ফাইবার ফিল্টারটি খুলে নিয়ে আলতো হাতে ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর আবার আগের জায়গায় ফিট করে নিলেই পানির স্বাভাবিক ফ্লো ফিরে আসবে। তবে মাইক্রো-ফাইবার ফিল্টার পুরো কালো হয়ে গেলে, তা বদলে নিতে হবে।

  2. অ্যাকটিভেটেড কার্বন ফিল্টার:

    পিউরিফায়ার-এর অ্যাকটিভেটেড কার্বন ফিল্টার পানির বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ, ক্ষতিকর জীবাণু পরিশোধন করে পানিকে বিশুদ্ধ পান করার যোগ্য করে তোলে। পানির বাজে গন্ধ বা বাজে স্বাদের অন্যতম কারণ এই অ্যাকটিভেটেড কার্বন ফিল্টারটির অকার্যকারিতা। তাই মাঝেমধ্যেই এটি খুলে পরিষ্কার করতে হয় অথবা বদলে নিতে হয়। সাধারণত এই কার্বন ফিল্টারটি খুলে পানিতে ভালো করে ধুয়ে নিলেই হয়। তবে কিছু পিউরিফায়ারের সাথে একটি বেলো পাম্প থাকে যাতে পানি ভরে কার্বন ফিল্টারের নলের সাথে যুক্ত করে কিছুক্ষণ পানি পাম্প করে নিতে হয়।

    এছাড়া অ্যাকটিভেটেড কার্বন রি-অ্যাকটিভেট করেও পিউরিফায়ারের অ্যাকটিভেটেড কার্বন ফিল্টারটি ঠিক করে নেয়া সম্ভব। অ্যাকটিভেটেড কার্বনকে পানিতে ফুটিয়ে এর কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তবে সলিড কোন প্রমাণ নেই বলে অনেকের কাছেই এটি গ্রহণযোগ্য নয়।

  3. রিভার্স অসমোসিস (RO) মেমব্রেন:

    রিভার্স অসমোসিস (RO) মেমব্রেনকে বলা যায় বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত ওয়াটার পিউরিফায়ারের প্রাণ ভোমরা। তাই পিউরিফায়ার-এর পানির ফ্লো স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কমে গেলে অথবা পানির লবনাক্ততা বেড়ে গেলে এটাকে ঠিক করে নেয়া উচিৎ বলে মনে করতে হবে। কারণ এটিই পানিতে থাকা ৯৫% রাসায়নিক ইমপিউরিটি দূর করে। এজন্য নিজে চেষ্টা না করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টেকনিক্যাল টিমের সাহায্য নিতে হবে। কেননা উল্টাপাল্টা কিছু হলে পিউরিফায়ারটি একেবারেই অকেজো হয়ে যেতে পারে।

  4. ফিল্টারের নল বা ফসেট:

    ওয়াটার পিউরিফায়ারের নলটি খুলে ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে লাগিয়ে নিতে হবে। এতে করে পিউরিফায়ার-এর নল থেকে পানি লিক করা, বাজে শব্দ বের হওয়া, অথবা ধীরে পানি পড়া সমস্যা গুলোর সমাধান হবে।

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশুদ্ধ নিরাপদ খাবার পানির বিকল্প নেই। তাই বাড়িতে থাকা ওয়াটার পিউরিফায়ারটি নিয়মিতভাবে পরিষ্কার করতে হবে। এবং নির্দিষ্ট সময় পর পিউরিফায়ারের ফিল্টার বদলে নিতে হবে। এছাড়া যখনই ফিল্টারে কোনো সমস্যা দেখা দিয়েছে তখনই টেকনিকাল সাপোর্ট নিয়ে দ্রুত সমাধান করতে হবে।

মূলভাবে প্রকাশিত